রফিক সাহেব প্রথমবারের মতো পরিবার নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাসের পরিকল্পনা করলেন। শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ নয়। শহরটি বাইরে থেকে যতটা আধুনিক, আকর্ষণীয় এবং ঝলমলে মনে হয়, ভেতরে ঢুকলে এর আবাসন ব্যবস্থা ঠিক ততটাই জটিল। ভাড়া বাড়ির প্রতিযোগিতামূলক বাজার, বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র, আয়ের প্রমাণ, ক্রেডিট যাচাই এবং কোন বরোতে বসবাস করা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে সবকিছু মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকের কাছেই একটি গোলকধাঁধার মতো মনে হতে পারে।
তবে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের সাহায্যে রফিক সাহেব শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবারের জন্য একটি সুন্দর ও উপযুক্ত বাড়ি ভাড়া নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। কীভাবে তিনি এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করেছিলেন? সেটিই আজকের এই লেখার মূল বিষয়।
এই লেখায় আমি ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে তুলে ধরব। কোথায় বাড়ি খুঁজবেন, কী কী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে, কোন বরো পরিবারের জন্য বেশি উপযোগী, কত বাজেট লাগতে পারে এবং আবেদন করার সময় কোন বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত সবকিছুই সহজ ভাষায় আলোচনা করা হবে। ফলে আপনিও রফিক সাহেবের মতো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক সিটিতে আপনার পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।
নিউ ইয়র্ক সিটির বর্তমান ভাড়ার বাজার: রফিক সাহেব যা দেখে অবাক হয়েছিলেন
রফিক সাহেব প্রথমেই যে জিনিসটায় চমকে গিয়েছিলেন, সেটা হলো ভাড়ার পরিমাণ। সোজা কথায়, এই শহরের ভাড়া আমেরিকার অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ভাড়ার মধ্যমান দাঁড়িয়েছে ৩,৬১৬ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৬.২ শতাংশ বেশি। অবাক না?
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ম্যানহাটনেই সব কিছু সেরা। আমি একমত নই, কারণ পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ম্যানহাটন সবসময় সঠিক পছন্দ নয়। ম্যানহাটনে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া এখন ৫,৩৪৫ ডলার। এই অঙ্কটা একটি পরিবারের জন্য খুবই চাপের।
রফিক সাহেব নিউ ইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকার ভাড়া তুলনা করলেন। পার্থক্যটা বিশাল। ম্যানহাটনের সার্বিক মধ্যমান ভাড়া ৪,৭৩০ ডলার, ব্রুকলিন পার হয়ে গেছে ৩,৮০০ ডলার, আর ব্রঙ্ক্স প্রথমবারের মতো ৩,১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তবুও কুইন্স তুলনামূলক সাশ্রয়ী থেকেছে।
| বরো | মধ্যমান ভাড়া (২০২৬ সাল) | পরিবারের জন্য উপযুক্ততা |
|---|---|---|
| ম্যানহাটন | ৪,৮৭৮ ডলার (১ বেডরুম) | ব্যয়বহুল, কিন্তু সুবিধাজনক |
| ব্রুকলিন | ৩,৮০০ ডলার | পরিবারের জন্য ভালো বিকল্প |
| কুইন্স | ৪,১৫০ ডলার (মধ্যমান) | বাংলাদেশি সম্প্রদায় আছে |
| ব্রঙ্ক্স | ৩,১০০ ডলার | সবচেয়ে সাশ্রয়ী |
নিউ ইয়র্কের ভাড়া এখন মহামারি-পূর্ব সময়ের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি, যেখানে সারা দেশে এই বৃদ্ধি মাত্র ১৭.৫ শতাংশ। ঠিক এটাই কথা। রফিক সাহেব তাই ম্যানহাটন বাদ দিয়ে কুইন্সের দিকে নজর দিলেন, যেখানে বাংলাদেশি কমিউনিটিও আছে।
কাজের পরামর্শ: ভাড়া খোঁজার আগে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে বিভিন্ন বরোর ভাড়ার পরিসংখ্যান লিখে আপনার বাজেটের সঙ্গে তুলনা করুন। এই ছোট্ট পদক্ষেপটি আপনাকে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করা থেকে বাঁচাবে এবং শুরু থেকেই সঠিক এলাকাগুলোতে মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে।
🔥 Don’t Miss These Opportunities
বরো এবং এলাকা বাছাই: রফিক সাহেব যে হিসাব কষলেন
এলাকা বাছাই করা মানেই শুধু ভাড়ার হিসাব নয়। স্কুল, যোগাযোগ, নিরাপত্তা সবকিছু একসাথে ভাবতে হয়। রফিক সাহেব একা এই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নিলেন।
যে কথাটা কেউ বলে না: কুইন্স শুধু সাশ্রয়ী নয়, পরিবারের জন্য বাস্তবিকভাবেও সবচেয়ে বেশি উপযোগী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কুইন্সের মধ্যমান ভাড়া ৪,১৫০ ডলার, তবে গত ৩-৬ মাসে বিলাসবহুল ইউনিটের ভাড়া ১০-১৪ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধিটা মাথায় রাখা দরকার।
আচ্ছা ধরুন, আপনার কাছে দুটো বিকল্প আছে। ওয়াশিংটন হাইটস নাকি জ্যাকসন হাইটস? রফিক সাহেব এই দুটো জায়গার তুলনা করলেন। নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর মধ্যে বুশউইকে এক-বেডরুমের গড় ভাড়া ১,৫২৫ ডলার, উত্তর-পূর্ব কুইন্সে ২,২৫০ ডলার, এবং ওয়াশিংটন হাইটসে ২,৫০০ ডলার।
ব্যক্তিগতভাবে আমি কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস বা উডসাইডকে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ এখানে দক্ষিণ এশিয়ার কমিউনিটি শক্তিশালী, হালাল খাবার সহজলভ্য, এবং সাবওয়ে সংযোগও মসৃণ। পরিবার নিয়ে নতুন শহরে এটুকু পরিচিতি অনেক স্বস্তি দেয়।
থাক, মূল কথায় আসি। ম্যানহাটন এবং ব্রুকলিনের উচ্চমূল্য যখন ভাড়াটেদের বাইরে ঠেলে দেয়, তখন চাহিদা ঢেউয়ের মতো বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঐতিহাসিকভাবে সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর দামও বাড়তে শুরু করে। তাই দেরি না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
রফিক সাহেব শেষ পর্যন্ত কুইন্সের একটি দুই-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্থির হলেন। দুই সন্তানসহ পরিবারের জন্য এটি যথেষ্ট জায়গা দিয়েছিল।
কাজের পরামর্শ: এলাকা চূড়ান্ত করার আগে সেই এলাকায় একদিন সময় কাটান। সকালে সাবওয়ে ধরুন, বিকেলে বাজার করুন পাড়াটা নিজেই বলে দেবে পরিবারের জন্য মানানসই কিনা।
অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার প্রক্রিয়া এবং ব্রোকার ফি: রফিক সাহেব যে নতুন আইনের সুবিধা পেয়েছিলেন
এই অংশটা পড়লে অনেকে অবাক হবেন। নিউ ইয়র্কে ব্রোকার ফির নিয়ম সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বেশিরভাগ প্রবাসী এখনো পুরনো নিয়মে ভাবেন, যেটা এখন আর বৈধ নয়।
২০২৫ সালের ১১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া ফেয়ারনেস ইন অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টাল এক্সপেন্সেস আইন, যা ফেয়ার অ্যাক্ট নামে পরিচিত, বাড়িওয়ালার পক্ষে নিয়োজিত দালালরা ভাড়াটেদের কাছ থেকে ব্রোকার ফি নিতে পারবেন না বলে বিধান করেছে।
“রফিক সাহেব আগে শুনেছিলেন যে নিউ ইয়র্কে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গেলে বার্ষিক ভাড়ার ১২–১৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্রোকার ফি গুনতে হতে পারে। এই আইনের আগে সেটাই ছিল সাধারণ বাস্তবতা। মজার বিষয় হলো, অনেক সময় ব্রোকারকে নিয়োগ করতেন বাড়িওয়ালা, কিন্তু ফি দিতে হতো ভাড়াটেকেই। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন এই বিষয়টি একেবারেই খোলাখুলি এবং নিয়মিত চর্চিত ছিল।”
২০২৬ সালেও নিউ ইয়র্কের ভাড়া বাজার ফেয়ার অ্যাক্টের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের ১১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর ফলে রফিক সাহেব হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পেরেছিলেন।
তবে সততার সাথে বলছি, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর কিছু বাড়িওয়ালা পরোক্ষভাবে সেই খরচ ভাড়ার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে কতটুকু প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালে এই নিয়ম লঙ্ঘনে প্রতি ঘটনায় দুই হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার জন্য রফিক সাহেব স্ট্রিট-ইজি, জিলো এবং রেন্ট-হপ ব্যবহার করেছিলেন। নিউ ইয়র্কে এখন প্রতিটি বিজ্ঞাপনে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫২.১ শতাংশ বেশি আবেদন আসছে। বাজারটা কতটা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে।
কাজের পরামর্শ: অ্যাপার্টমেন্ট দেখতে যাওয়ার আগেই স্ট্রিট-ইজি বা জিলোতে ফি প্রকাশের অংশটা খুঁটিয়ে পড়ুন। যদি “অ্যাডমিন ফি” বা “মুভ-ইন ফি” নামে কোনো অস্পষ্ট চার্জ দেখেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার ব্যাখ্যা চাইতে ভুলবেন না।
আবেদনের কাগজপত্র এবং ক্রেডিট যোগ্যতা: রফিক সাহেব যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন
জানেন, নিউ ইয়র্কে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অনেকটা চাকরির ইন্টারভিউয়ের মতো। প্রস্তুতি ছাড়া গেলে সুযোগ হাতছাড়া। রফিক সাহেব প্রথম দুটো আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল শুধু কাগজপত্র অসম্পূর্ণ ছিল বলে।
নিউ ইয়র্কে অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো যেকোনো মুহূর্তে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সব কাগজ প্রস্তুত রাখা। পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে দ্রুত চলে যেতে পারে, এবং নিয়োগকর্তার চিঠি বা ট্যাক্স রিটার্নের অভাবে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। শুধু কাগজ-পত্র ঠিক থাকলেই চলে না, আয়ের প্রমাণটা সঠিক পরিমাণে থাকা জরুরি। বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা চান যে মাসিক আয় ভাড়ার অন্তত ৪০ গুণ হোক বার্ষিক হিসাবে।
| প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | বিস্তারিত |
|---|---|
| পরিচয়পত্র | পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স (বিদেশি হলে ভিসা/গ্রিন কার্ডসহ) |
| আয়ের প্রমাণ | সাম্প্রতিক তিন মাসের বেতন স্লিপ বা ট্যাক্স রিটার্ন |
| নিয়োগকর্তার চিঠি | পদবি, আয় এবং কর্মসংস্থানের মেয়াদ উল্লেখ করে |
| ব্যাংক বিবরণী | সাম্প্রতিক দুই-তিন মাসের স্টেটমেন্ট |
| ক্রেডিট রিপোর্ট | আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২০ ডলার (প্রতি আবেদনকারী) |
বিদেশি নাগরিক হলে বৈধ বিদেশি পাসপোর্টের পাশাপাশি ভিসা বা গ্রিন কার্ড দিতে হতে পারে। রফিক সাহেব তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদাভাবে এই নথি প্রস্তুত করেছিলেন।
প্রায় প্রতিটি বাড়িওয়ালাই ক্রেডিট ইতিহাস যাচাই ও আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য ফি নেন, তবে এই ফি প্রতি আবেদনকারীর জন্য সর্বোচ্চ ২০ ডলার। এই তথ্যটা অনেকেই জানেন না।
সব কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখলে অ্যাপার্টমেন্ট দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন করা সম্ভব, যা সেটি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। রফিক সাহেব তৃতীয়বারে এই কৌশল কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন।
কাজের পরামর্শ: আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি সেটা হল সব প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র একটি ক্লাউড ফোল্ডারে আগেভাগে আপলোড করে রাখুন। অ্যাপার্টমেন্ট দেখার দিন শুধু লিঙ্কটা পাঠিয়ে দিন এটা আপনার পরের বাড়ি খোঁজার কাজে বারবার কাজে আসবে।
রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড বনাম মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্ট: রফিক সাহেব যে সিদ্ধান্তটা অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে নিয়েছিলেন
এই বিষয়টা নিয়ে একটা কথা প্রায় কেউই বলে না রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট পেলে সেটা হুট করে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি আপনার জন্য বড় ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে। রফিক সাহেব বিষয়টি বুঝেছিলেন বলেই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিলেন, আর শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই তার জন্য লাভজনক হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান লিজের জন্য নিউ ইয়র্কের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক বছরের লিজে ৩ শতাংশ এবং দুই বছরের লিজে ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ, স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টে থাকলে প্রতি বছর ভাড়া হঠাৎ করে দ্বিগুণ হওয়ার ভয় নেই।
যদিও মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টে আরও বেশি স্বাধীনতা থাকে, তবুও আমি রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড বিকল্পকে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে থাকলে আর্থিক নিশ্চয়তা সবচেয়ে বড় বিষয়।
২০২৬ সালে একজন সাধারণ নিউ ইয়র্ক ভাড়াটে মাসে প্রায় ১,৮৫৫ ডলার দেন, কিন্তু নতুন বাজারের ভাড়ার সঙ্গে তুলনায় পার্থক্য দাঁড়ায় ১,৭৬১ ডলার, এবং সাশ্রয়ী সীমার মধ্যে থাকতে বাড়তি বার্ষিক আয়ের প্রয়োজন হয় ৭০,৪০০ ডলারেরও বেশি।
দেখুন না, এই তথ্যটা বলছে শহর পরিবর্তন করা কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যানহাটনে টানা দুই বছর ধরে ভাড়া ইনভেন্টরি কমছে, যা স্ট্রিট-ইজি এর ২০ বছরের ইতিহাসে দীর্ঘতম ধারাবাহিক পতন। তাই স্থির হওয়া এখন আরও বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনঃ আমার নেপালি বন্ধু আমেরিকায় যেভাবে দোকান ভাড়া নিয়ে তাঁর নিজের সবজির দোকান শুরু করল
নিউ ইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড শহরের প্রায় দশ লক্ষ বাসস্থানের জন্য ভাড়া সমন্য়ন্ত্রণ করে।
নিউ ইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড শহরের প্রায় দশ লক্ষ বাসস্থানের জন্য ভাড়া সমন্বয় নির্ধারণ করতে বাধ্য, যেগুলো রেন্ট স্ট্যাবিলাইজেশন আইনের আওতায় পড়ে। বোর্ড প্রতি বছর একাধিক সরকারি বৈঠক ও শুনানি করে, যেখানে ভাড়াটে, মালিক, অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য বিবেচনা করা হয়।
২০২৬ সালের মে মাসে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড একটি প্রাথমিক ভোটে অনুমোদন দিয়েছে যে শহরের প্রায় দশ লক্ষ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ভাড়া জমা (রেন্ট ফ্রিজ) রাখার বিষয়টি বিবেচনায় আছে এক বছরের লিজে ০% থেকে ২% এবং দুই বছরের লিজে ০% থেকে ৪% বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
RGB-এর আয়ের তথ্য বলছে, রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটেদের মধ্যবর্তী পারিবারিক আয় প্রায় ৬০,০০০ ডলার অর্থাৎ ভাড়া বৃদ্ধির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে কর্মজীবী নিম্নমধ্যবিত্ত নিউ ইয়র্কবাসীদের উপর।
রেন্ট স্ট্যাবিলাইজেশন হলো ভাড়া নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি, যা শহরের হাউজিং সংকট মোকাবেলায় সাহায্য করে এবং নিউ ইয়র্ক সিটির প্রায় অর্ধেক ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড। এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো সাধারণত ৬ বা তার বেশি ইউনিটের ভবনে অবস্থিত, যেগুলো ১৯৭৪ সালের আগে নির্মিত। রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটেরা ভাড়ার হঠাৎ বড় বৃদ্ধি থেকে সুরক্ষিত থাকেন এবং লিজ নবায়নের অধিকার পান।
রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট আইনগতভাবে সুরক্ষিত নবায়ন হারসহ নিউ ইয়র্কে সবচেয়ে সুবিধাজনক আবাসন বিকল্পগুলোর একটি। রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটেরা মূল লিজের একই শর্তে নবায়ন লিজ পাওয়ার অধিকারী। এমনকি যদি কোনো ভাড়াটে মারা যান বা স্থায়ীভাবে চলে যান, তাহলে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরা “সাকসেশন রাইটস” অনুযায়ী সেই লিজ নিজের নামে নিতে পারেন।
শেষ কথা
নিউ ইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজা শুধু ঠিকানা বদলানোর বিষয় নয় এটা একটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সিদ্ধান্ত। স্ট্রিট-ইজি এর ২০২৬ সালের পূর্বাভাস বলছে, ম্যানহাটনে মধ্যবর্তী ভাড়া ৫,০০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এবং ব্রুকলিনে প্রথমবারের মতো মধ্যবর্তী ভাড়া ৪,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বাস্তবতায় যে ভাড়াটে সঠিক তথ্য নিয়ে বাজারে নামেন, তিনিই এগিয়ে থাকেন। রফিক সাহেবের মতো মানুষেরা তাই অপেক্ষা করেন, তুলনা করেন এবং বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেন।
মেয়র মামদানি পরপর চারটি রেন্ট ফ্রিজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা কার্যকর হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভাড়া বর্তমান স্তরে আটকে থাকবে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য আরও বাড়বে। তাই এখনই সঠিক অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজা, স্ট্যাবিলাইজেশন স্ট্যাটাস যাচাই করা এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে জানাটা সবচেয়ে জরুরি কাজ।
শেষ পর্যন্ত এটুকুই বলার যে, নিউ ইয়র্কের ভাড়ার বাজার কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। রেন্ট স্ট্যাবিলাইজেশন নিউ ইয়র্ক সিটিতে দশ লক্ষেরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট এবং নাসাউ, ওয়েস্টচেস্টার ও রকল্যান্ড কাউন্টিতে আরও অনেক ইউনিটকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সঠিক তথ্য, ধৈর্য এবং একটু বাড়তি প্রস্তুতি থাকলে আপনিও সেই লক্ষ লক্ষ সুরক্ষিত ভাড়াটের একজন হতে পারেনঠিক যেভাবে রফিক সাহেব হয়েছিলেন।

