রাসেল আমেরিকায় আসার পর প্রথম দিকে বাড়ি ভাড়া করতে গিয়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল

রাসেল যখন প্রথমবার একটি অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় কড়া নাড়ল, তখন সে ভেবেছিল সমস্যাটা হয়তো ভাষায়। আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। মূল বাধাটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায়, এবং সেটা হলো ক্রেডিট স্কোর। এই একটি সংখ্যা না থাকলে আমেরিকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

নতুন অভিবাসীরা যখন আমেরিকায় আসেন, তখন বন্ধকী ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, এমনকি বাড়ি ভাড়া নেওয়াতেও তারা ভয়ানক সমস্যায় পড়েন। কারণটা সহজ, নিজের দেশে যে ক্রেডিট স্কোর ছিল, সেটা আমেরিকায় আসে না, যেহেতু ভিন্ন দেশ ভিন্ন পদ্ধতিতে আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে। রাসেলের ক্ষেত্রেও ঠিক এটাই ঘটেছিল। বাংলাদেশে থাকাকালীন তার আর্থিক রেকর্ড চমৎকার ছিল, কিন্তু এখানে সেটার কোনো মূল্য নেই।

আমেরিকায় ক্রেডিট ইতিহাস না থাকলে অভিবাসীরা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া, গাড়ি কেনা, এমনকি মোবাইল ফোনের প্ল্যান নেওয়াতেও কঠিন বাধার মুখে পড়েন। অবাক লাগলো। ফোনের সংযোগ পেতেও ক্রেডিট স্কোর লাগে! এমনকি আগের দেশে চমৎকার ক্রেডিট রেকর্ড থাকলেও সেটা আমেরিকায় স্থানান্তরিত হয় না, কারণ আমেরিকার ক্রেডিট রিপোর্টে শুধু মার্কিন ঋণদাতা ও পাওনাদারদের তথ্য থাকে।

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় যে ক্রেডিট স্কোর না থাকলে বাড়িওয়ালাকে বোঝানো যায়। আমি একমত নই, কারণ বড় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে প্রায় কঠোর নীতি মেনে চলে। ছোট ও স্বাধীন বাড়িওয়ালারা তুলনায় নমনীয় হন, কিন্তু বড় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই কঠোর নীতি অনুসরণ করে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর বা ক্রেডিট যাচাই বাধ্যতামূলক করে।

কিছু বাড়িওয়ালা ভাড়ার আবেদন যাচাইয়ে ক্রেডিট স্কোর দেখতে চান, এবং যদিও এটাই একমাত্র বিষয় নয়, তবুও এটা বাড়িওয়ালাকে আবেদন নাকচ করতে প্রভাবিত করতে পারে। রাসেলের প্রথম তিনটি আবেদন এই কারণেই বাতিল হয়েছিল।

কাজে লাগার পরামর্শ: আমেরিকায় পৌঁছানোর প্রথম সপ্তাহেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড নিন। মাত্র দুই থেকে তিন মাসের পেমেন্ট ইতিহাসেও অনেক বাড়িওয়ালা আলোচনায় রাজি হন। এই কাজটি করতে পনেরো মিনিটের বেশি লাগে না।

ভাড়া বাজারের মূল্য এখন আকাশছোঁয়া, নতুন অভিবাসীর জন্য দ্বিগুণ চাপ

জানেন, রাসেল ঢাকায় যে পরিমাণ ভাড়া দিত, তার প্রায় দশগুণ বেশি গুনতে হয় নিউ ইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ায়। এটা শুধু তার গল্প নয়। পুরো মার্কিন ভাড়া বাজারই এখন টালমাটাল।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন গড় মাসিক ভাড়া প্রায় দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি, যা গত পাঁচ বছরে ৩৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জিলোর তথ্য জানাচ্ছে। এই সংখ্যাটা মাথায় রাখার মতো। পাঁচ বছরে ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি মানে প্রতি বছর গড়ে সাত শতাংশের বেশি।

আমেরিকার আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে বিদেশজন্ম মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ বেড়েছে, যা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভাড়া বাজারে। ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কের মতো রাজ্যে ভাড়া মূল্য বৃদ্ধির শতভাগ দায় অভিবাসীদের চাহিদার ওপর বর্তেছে, এবং সারা দেশে বিদেশজন্ম মানুষেরা ভাড়াজনিত চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ তৈরি করেছেন।

সততার সাথে বলছি, এই পরিসংখ্যান নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে দায়টা সম্পূর্ণ অভিবাসীদের ঘাড়ে চাপানো কতটুকু ন্যায্য। দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসন নির্মাণ না হওয়া, জোনিং বিধিনিষেধ, শ্রমিক সংকট এবং নির্মাণ খরচ বৃদ্ধির মতো কারণগুলোও ভাড়া বৃদ্ধিতে সমানভাবে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু রাসেলের মতো নতুন অভিবাসীকে এই চাপের মধ্যেই বাড়ি খুঁজতে হয়।

বাড়িতে প্রথমবার উঠতে গেলে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক খরচের জন্য পাঁচ হাজার থেকে পনেরো হাজার ডলার পর্যন্ত বাজেট রাখা জরুরি। থাক, মূল কথায় আসি। রাসেল এই তথ্য আগে জানত না, তাই প্রথম মাসে নগদ অর্থের সংকটে পড়েছিল।

কাজে লাগার পরামর্শ: বাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে মোট মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় না যাওয়াই ভালো। একটি সহজ নিয়ম মেনে চলুন, প্রথম মাসের ভাড়া, জামানত এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তিন থেকে চার মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ সঞ্চয় হাতে রাখুন। পরের বাজেট পরিকল্পনায় এটা চেষ্টা করুন।

কাগজপত্রের জটিলতা যেখানে আবেদন আটকে যায় বারবার

আচ্ছা ধরুন, আপনি বাড়িওয়ালার সামনে বসে আছেন। তিনি একটার পর একটা কাগজ চাইছেন। আপনার কাছে কিছু আছে, কিছু নেই। এই অনুভূতিটাই রাসেলকে সবচেয়ে বেশি বিব্রত করেছিল।

বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ক্রেডিট ইতিহাস অপরিহার্য। বাড়িওয়ালারা প্রায়ই আবেদন অনুমোদনের আগে ক্রেডিট রিপোর্ট দেখতে চান বা ক্রেডিট সম্পর্কিত তথ্যসূত্র জানতে চান। এর বাইরেও আরও একটি বিষয় আছে যা অনেকে ভুলে যান।

বাড়িওয়ালারা অভিবাসন মর্যাদার প্রমাণও দেখতে চান, কারণ এটা থেকে তারা বুঝতে পারেন ভাড়াটে কতদিন থাকবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কাগজপত্রে মাত্র ছয় মাস থাকার অনুমতি থাকে, তাহলে ১২ মাসের লিজের শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়, এবং বাড়িওয়ালার আবেদন নাকচ করার যথেষ্ট কারণ থাকে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেন দরকার বিকল্প বিকল্প
মার্কিন ক্রেডিট স্কোর আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রিপোর্ট বা আয়ের প্রমাণ
সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর বা আইটিআইএন পরিচয় যাচাই বিদেশি পাসপোর্ট বা কনস্যুলার পরিচয়পত্র
আয়ের প্রমাণ ভাড়া পরিশোধের সামর্থ্য দেখানো নিয়োগকর্তার চিঠি বা ব্যাংক বিবৃতি
অভিবাসন মর্যাদার কাগজ লিজের মেয়াদ নিশ্চিত করা ভিসার মেয়াদ বিস্তারিত দেখানো
জামানতকারীর তথ্য অতিরিক্ত আর্থিক নিশ্চয়তা পেশাদার জামানত সেবা

সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর মধ্যে একটি হলো অসম্পূর্ণ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজ জমা দেওয়া। এছাড়া নিম্নমানের অনুবাদ বা অননুমোদিত অনুবাদ জমা দেওয়া, এবং বাড়তি মুভ-ইন খরচের পরিমাণ আগে থেকে না বোঝাও প্রায়ই সমস্যা তৈরি করে।

চাকরির বেতন রসিদ, ব্যাংক জমার প্রমাণ বা নিয়োগকর্তার চিঠি দিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রমাণ করা যায়। কিছু বাড়িওয়ালা বিদেশের আগের বাড়িওয়ালার চিঠিও গ্রহণ করেন, যদি তা ভাড়াটে হিসেবে নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করে।

কাজে লাগার পরামর্শ: বাড়ি খোঁজার অন্তত ৪৫ দিন আগে একটি সম্পূর্ণ কাগজপত্রের তালিকা তৈরি করুন। প্রতিটি কাগজের মেয়াদ দেখুন এবং অনুবাদের প্রয়োজন হলে সনদপ্রাপ্ত অনুবাদক ব্যবহার করুন। এই পাঁচ মিনিটের পরিকল্পনা পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝামেলা বাঁচাতে পারে।

ভাষার বাধা এবং বৈষম্যের অদৃশ্য দেওয়াল

রাসেল ইংরেজিতে কথা বলতে পারত, তবে উচ্চারণে বাংলা টান ছিল। সোজা কথায়, এই টানই তার জন্য একটি অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করেছিল। কিছু বাড়িওয়ালা তার সাথে আলাদা আচরণ করেছেন, আবেদন গ্রহণে গড়িমসি করেছেন।

অভিবাসীরা যে সাধারণ আবাসন বৈষম্যের শিকার হন, তার একটি বড় রূপ হলো সীমিত ইংরেজিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের কাছে বাড়ি বিক্রি বা ভাড়া না দেওয়া। এটা শুধু রাসেলের গল্প নয়। লক্ষ্য করলাম, এটা একটি ব্যাপক সমস্যা।

কোনো বাড়িওয়ালা যদি কাউকে তার উচ্চারণ বা ইংরেজি ভিন্ন ভাষায় কথা বলার কারণে আলাদা আচরণ করেন, তাহলে এটা জাতীয় উৎস-ভিত্তিক বৈষম্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট আইনে। কিন্তু বাস্তবে এটা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন।

আরও পড়ুনঃ জব্বার সাহেব তাঁর গাড়ির ব্যবসার জন্য নিউ ইয়র্ক সিটিতে অফিস ভাড়া নিয়েছিলেন

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি বাড়িওয়ালাদের সতর্ক করেছেন যে অভিবাসী ভাড়াটেদের প্রতি আবাসন বৈষম্য অবৈধ এবং বাড়িওয়ালাকে ভাড়াটে যে ভাষা বোঝেন সেই ভাষায় লিখিত চুক্তি দিতে হবে। তবুও বাস্তবে এই নিয়ম সর্বত্র মানা হয় না।

আইন ভঙ্গ করলে বাড়িওয়ালাকে অভিবাসন মর্যাদা প্রকাশের জন্য মাসিক ভাড়ার বারো গুণ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। জানেন, এই বিষয়টা রাসেলের জানা ছিল না। আর তাই সে বুঝতেও পারেনি যে তার সাথে কতটুকু বেআইনি আচরণ হয়েছিল।

বাড়িওয়ালা কোনো ব্যক্তিকে অভিবাসী হওয়ার কারণে বা অভিবাসী মনে করার কারণে বৈষম্য করতে পারেন না, এবং কেউ মার্কিন নাগরিক না হলেই তার বিরুদ্ধে বৈষম্য করা বেআইনি।

কাজে লাগার পরামর্শ: বাড়িওয়ালার সাথে প্রতিটি কথোপকথন লিখিত রাখুন। মেসেজ বা ইমেইলে করুন। যদি মনে হয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, তাহলে স্থানীয় ন্যায্য আবাসন সংস্থায় যোগাযোগ করুন। এটা করতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না।

জামানতকারী ও অতিরিক্ত জমানত: লুকানো আর্থিক ফাঁদ

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, জামানতকারী বা গ্যারান্টরের সমস্যাটাকে অনেক লেখক যতটা সহজ মনে করেন, বাস্তবে সেটা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মূলত কারণ, নতুন অভিবাসীর কাছে মার্কিন-ভিত্তিক জামানতকারী থাকাই সম্ভব নয়।

বাড়ি ভাড়ার জন্য বৈধ অভিবাসন মর্যাদা, মাসিক ভাড়ার ৪০ থেকে ৬০ গুণ আয়ের প্রমাণ অথবা জামানতকারী থাকা দরকার যার মাসিক ভাড়ার ৮০ গুণ আয় থাকতে হবে। এই সংখ্যাটা একটু হিসাব করুন। মাসিক দুই হাজার ডলার ভাড়ার জন্য জামানতকারীর বার্ষিক আয় হতে হবে এক লাখ ষাট হাজার ডলার। আশ্চর্য না?

জামানতকারী হলেন এমন কেউ যিনি ভাড়াটে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে নিজে দায় নেন। অনেক বাড়িওয়ালা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রিপোর্ট বা আয়ের প্রমাণ দিয়েও কাজ চালান। তবে অনেকে বিদেশি জামানতকারীর চেয়ে মার্কিন-ভিত্তিক জামানতকারী পছন্দ করেন। পেশাদার জামানত সেবাগুলো বেশি গৃহীত হওয়ার সুযোগ দেয়।

কিছু বাড়িওয়ালা বেশি নিরাপত্তা জামানত দিলে দ্রুত অনুমোদন করেন। এটাই রাসেলের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তাকে তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম জামানত হিসেবে দিতে বলা হয়েছিল, যেখানে সাধারণত এক মাসের জামানতই যথেষ্ট।

চেজ, ব্যাংক অফ আমেরিকা এবং ওয়েলস ফার্গোর মতো বড় ব্যাংকগুলোয় আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সেবা রয়েছে। অ্যাকাউন্ট খুলতে সাধারণত ১০০ থেকে ৫০০ ডলার প্রাথমিক জমা দিতে হয়, এবং দুই থেকে তিন মাসের ব্যাংক বিবৃতি ভাড়ার আবেদনে সহায়তা করে।

পরিস্থিতি সাধারণ চাহিদা রাসেলের মতো নতুনদের জন্য চ্যালেঞ্জ
মার্কিন জামানতকারী দরকার মাসিক ভাড়ার ৮০ গুণ বার্ষিক আয় পরিচিত কেউ নেই বা আয় যথেষ্ট নয়
নিরাপত্তা জামানত এক মাসের ভাড়া তিন মাস পর্যন্ত চাহাজার ডলার পর্যন্ত
ক্রেডিট স্কোর ৭০০ বা তার বেশি মার্কিন ক্রেডিট ইতিহাস নেই
আবেদন প্রক্রিয়া ২৪–৭২ ঘণ্টা আন্তর্জাতিক কাগজপত্রে এক সপ্তাহ পর্যন্ত

পেশাদার জামানত সেবা: নতুন অভিবাসীর ত্রাণকর্তা

ব্যক্তিগত জামানতকারী খুঁজে না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ইনসুরেন্ট, দ্য গ্যারান্টর্স এবং লিপইজি এর মতো সুপরিচিত পেশাদার জামানত কোম্পানিগুলো নতুন অভিবাসীদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। যদি আপনি বাড়িওয়ালার যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করতে পারেন, তাহলে একটি লিজ গ্যারান্টি আপনাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। স্ব-নিযুক্ত, সাম্প্রতিক স্নাতক, আন্তর্জাতিক বাসিন্দা অথবা যাদের ক্রেডিট সমস্যা আছে সবাই দ্য গ্যারান্টর্স এর মাধ্যমে যোগ্য হতে পারেন।

এই সেবার খরচ কেমন? মার্কিন পক্ষের জন্য গড় জামানত ফি এক বছরের লিজে এক মাসের ভাড়ার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ। মার্কিন ক্রেডিট ইতিহাস নেই এমন বিদেশি পক্ষের জন্য এটি ৯৮ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, মাসিক দুই হাজার ডলার ভাড়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য একজন বিদেশি ভাড়াটেকে প্রায় দুই হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে। এটি একটি বাড়তি খরচ, তবে বাড়ি না পাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো।

ইনসুরেন্ট লিজ গ্যারান্টি প্রোগ্রাম নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, ইলিনয়, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নেভাডা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডায় ৮,০০০-এরও বেশি ভবনের ৭৭৫,০০০ অ্যাপার্টমেন্টে গৃহীত। যদি আপনার ভবন ইনসুরেন্ট অনুমোদিত হয়, তাহলে প্রক্রিয়াটি সহজ কোনো আবেদন ফি নেই, সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক যোগ্যতা নির্ধারণ হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়িওয়ালাকে গ্যারান্টি পত্র দেওয়া হয়।

দ্য গ্যারান্টর্স বড় প্রপার্টি ম্যানেজার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাড়িওয়ালাদের কাছে জনপ্রিয় এবং কোম্পানিটি কোটি কোটি ডলারের পলিসি আন্ডাররাইট করে, লিজ গ্যারান্টি ও নিরাপত্তা জামানতের বিকল্প উভয়ই প্রদান করে।

তবে সতর্কতাও দরকার। যদি আপনি ভাড়া দিতে না পারেন, গ্যারান্টর কোম্পানি বাড়িওয়ালাকে পরিশোধ করবে, এরপর আইনগত সুব্রোগেশন অধিকার ব্যবহার করে আপনার বিরুদ্ধে দাবি করবে। সুতরাং এই সেবা ব্যবহার করলেও ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করাই সর্বোত্তম পথ।

শেষ কথা

আমেরিকায় নতুন অভিবাসী হিসেবে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পথটি কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। রাসেলের গল্পটি লক্ষ লক্ষ নতুন অভিবাসীর বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। নিউ ইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ব্যয়বহুল ভাড়া বাজারে বাড়িওয়ালারা প্রায়ই অনুমোদন দেওয়ার আগে অতিরিক্ত আর্থিক নিরাপত্তা চান। গত পাঁচ বছরে জামানতকারীর চাহিদা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি এবং সঠিক তথ্যই হলো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

মনে রাখবেন, মার্কিন ব্যাংকিং সম্পর্ক আগে থেকে তৈরি না করা একটি সাধারণ ভুল তাই আমেরিকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং দুই থেকে তিন মাসের ইতিহাস তৈরি করুন। পাশাপাশি, বাড়ি খোঁজা শুরু করুন প্রবেশের ৪৫ থেকে ৬০ দিন আগে এবং প্রাথমিক খরচ হিসেবে পাঁচ থেকে পনের হাজার ডলার বাজেটে রাখুন। পেশাদার জামানত সেবা, অতিরিক্ত নিরাপত্তা জামানত এবং বিদেশি আয়ের প্রমাণ এই তিনটি বিকল্প মিলিয়ে আপনি একটি শক্তিশালী আবেদন তৈরি করতে পারবেন।

সবশেষে, সেরা লিজ জামানত কোম্পানিগুলো শুধু ভাড়া পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয় না, বরং এমন ভাড়াটেদের বাড়ি পেতে সাহায্য করে যারা অন্যথায় যোগ্য বিবেচিত হতেন না। আমেরিকার নতুন জীবনের শুরুতে একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা মানে শুধু মাথার উপর ছাদ পাওয়া নয়, এটি হলো একটি স্থিতিশীল জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা। সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহার করলে রাসেলের মতো আপনিও একদিন সেই নতুন চাবিকাঠি হাতে নিতে পারবেন।

Leave a Comment