বাংলাদেশি একজন ছাত্র নিউ জার্সিতে দোকান ভাড়া নেওয়ার সময় যে সমস্যায় পড়েছিল

আচ্ছা ধরুন, একটা ছেলে বাংলাদেশ থেকে স্বপ্ন নিয়ে নিউ জার্সিতে আসে। পড়ালেখার পাশাপাশি একটু ব্যবসা করবে, দেশের কথা মনে রেখে বাংলাদেশি মুদিখানা বা খাবারের দোকান দেবে। কিন্তু দোকান ভাড়া নিতে গিয়েই শুরু হয় আসল সংকট।

এই গল্পটা শুধু একজনের নয়, এটা নিউ জার্সিতে থাকা বহু প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্রের সাথে ঘটে যাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। ভাষার বাধা, আইনি জটিলতা, ভাড়ার আকাশছোঁয়া দাম, ক্রেডিট হিস্ট্রির অভাব, এবং ভিসার শর্তের ফাঁদ এই সবকিছু মিলিয়ে একটা ছাত্রের ব্যবসা-স্বপ্ন কীভাবে প্রশ্নবোধক হয়ে পড়ে, সেটাই আজকে বিশ্লেষণ করব।

ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে দোকান মালিক মুখই দেখায় না

এটাই সবচেয়ে বড় ধাক্কা। সত্যিই।

আমাদের ছাত্রটি যখন প্রথমবার নিউ জার্সিতে কোনো বাণিজ্যিক জায়গা ভাড়া নিতে যায়, তখন সে বুঝতে পারে যে শুধু টাকা থাকলেই হয় না আমেরিকান ক্রেডিট স্কোরও লাগে। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ক্রেডিট স্কোর শুধু বাড়ি ভাড়ার জন্য দরকার। আমি একমত নই, কারণ বাণিজ্যিক দোকান ভাড়ার ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি কড়াকড়ি মালিকরা সরাসরি ব্যবসায়িক ক্রেডিট রিপোর্ট বা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি চায়, যা একজন নতুন আন্তর্জাতিক ছাত্রের কাছে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

জার্সি সিটিতে নতুন আসা বাসিন্দাদের মধ্যমা আয় ৮৮,০০০ ডলার, অথচ যারা এক বছরের বেশি সময় ধরে একই বাড়িতে আছেন তাদের মধ্যমা আয় মাত্র ৫১,০০০ ডলার। এই পার্থক্যটা বলে দেয় যে এই শহরে নতুন করে থাকা কতটা ব্যয়বহুল। একজন ছাত্র এই প্রতিযোগিতায় কোথায় দাঁড়ায়?

জার্সি সিটিতে খুচরা দোকানের জায়গা ভাড়ার গড় খরচ প্রায় ৫৫ ডলার প্রতি বর্গফুট। একটু হিসাব করুন। মাত্র ৫০০ বর্গফুটের ছোট একটা দোকানের জন্য বার্ষিক ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ২৭,৫০০ ডলার। প্রতি মাসে প্রায় ২,২৯২ ডলার। একজন পড়ুয়া ছাত্রের পক্ষে এটা ধারণ করা কার্যত অসাধ্য।

থাক, মূল কথায় আসি। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক জমির মালিক তিন মাসের আগাম ভাড়া এবং সিকিউরিটি ডিপোজিট একসাথে চায়। কারো কারো ক্ষেত্রে মোট ছয় মাসের ভাড়া আগেই জমা দিতে হয়। এই অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেক ছাত্র পরিবারের কাছ থেকে ধার করে, যা পরবর্তীতে বিশাল চাপ তৈরি করে।

আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: দোকান ভাড়া নেওয়ার আগে অন্তত ছয় মাস যেকোনো ছোট ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করুন। আপনিও পরের বার ব্যবসার পরিকল্পনায় এটা সবার আগে রাখুন।

ভিসার শর্ত এবং ব্যবসা পরিচালনার মাঝে যে আইনি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়

এই বিষয়টা নিয়ে যে কথাটা কেউ খোলাসা করে বলে না যে, একজন এফ-ওয়ান ভিসাধারী ছাত্র আমেরিকায় নিজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে না। দোকান ভাড়া নেওয়া এক বিষয়, কিন্তু সেখানে সক্রিয়ভাবে কাজ করা বা আয় করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

নিউ জার্সি অনথিভুক্ত বাসিন্দাদের সহ ডাকা প্রাপকদের ইন-স্টেট টিউশন, রাজ্যের আর্থিক সহায়তা, পেশাদার এবং পেশাগত লাইসেন্স, এবং ড্রাইভার লাইসেন্স ও রাজ্য পরিচয়পত্রের সুবিধা দেয়। যদিও, এফ-ওয়ান ছাত্রদের জন্য ব্যবসায়িক লাইসেন্স পাওয়ার পথ সরল নয়। নিউ জার্সি অভিবাসন মর্যাদা নির্বিশেষে পেশাদার ও পেশাগত লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ দেয়, এবং একটি আইনে অভিবাসী অবস্থান নির্বিশেষে পেশাদার লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতার শর্তটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবুও প্রশ্ন থাকে। সততার সাথে বলছি, ঠিক কোথায় ছাত্র-ভিসার শর্ত শেষ হয় এবং ব্যবসায়িক অধিকার শুরু হয়, এটা নিয়ে আমি নিজেও সবসময় নিশ্চিত নই। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে। কোনো পরামর্শদাতা বলেন শুধু মালিকানা রাখা যাবে, পরিচালনা নয়। কেউ বলেন অংশীদারিত্বে হলে সমস্যা নেই।

নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সাথে অংশীদারিত্ব নিষিদ্ধ করে আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যা ইমিগ্রান্ট ট্রাস্ট নির্দেশিকা হিসেবে পরিচিত। এই পরিবেশটা অভিবাসীদের জন্য কিছুটা নিরাপদ মনে হলেও, আইনের ধূসর এলাকায় ব্যবসা করার ঝুঁকি থেকেই যায়।

ব্যবসার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে একজন অভিবাসন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন। এই কাজটা করতে মাত্র একটা পরামর্শ সেশনের সময় লাগে, কিন্তু বাকি সমস্যাগুলো এড়ানো অনেক সহজ হয়ে যায়।

নিউ জার্সিতে বাণিজ্যিক ভাড়ার বাজার এবং ছাত্রের বাস্তবতার ফারাক

দেখুন না, কাগজে-কলমে নিউ জার্সিতে ব্যবসার সুযোগ অনেক। বাস্তবে ছবিটা একটু আলাদা।

প্যাটারসনে বাণিজ্যিক স্থানের গড় বার্ষিক ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ২২ ডলার, এবং স্থানের আকার ৫০ থেকে ১ লাখ ৯৭ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত হয়। জার্সি সিটির তুলনায় এটা সস্তা, কিন্তু প্যাটারসনে খুচরা দোকানের গড় বার্ষিক ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ৩১ ডলার, এবং স্থানের আকার ৪২০ থেকে ৭৪ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত।

এলাকা গড় খুচরা ভাড়া (বর্গফুট/বছর) সর্বনিম্ন দোকানের আকার বৈশিষ্ট্য
জার্সি সিটি ৫৫ ডলার ২৭১ বর্গফুট নিউ ইয়র্কের কাছাকাছি, উচ্চ চাহিদা
প্যাটারসন (খুচরা) ৩১ ডলার ৪২০ বর্গফুট বাংলাদেশি সম্প্রদায় বেশি, তুলনামূলক সাশ্রয়ী
প্যাটারসন (বাণিজ্যিক) ২২ ডলার ৫০ বর্গফুট শিল্প এলাকায় বেশি, বিকল্প আছে

আমি জার্সি সিটি বনাম প্যাটারসন তুলনা করলাম এবং পার্থক্যটা প্রতি বর্গফুটে ২৪ ডলার অনেকে যতটা ভাবেন তার চেয়ে অনেক বেশি। একই আকারের দোকানে প্যাটারসন বেছে নিলে বার্ষিক সাশ্রয় হতে পারে ১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত।

এটা ধরে নেওয়া যে আবাসন সরবরাহ বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম কমে, সেটা সরলীকরণ। জার্সি সিটির অভিজ্ঞতা বলছে বড় আকারের উন্নয়ন এবং ভাড়া বৃদ্ধির মধ্যে একটা সংযোগ আছে। বাণিজ্যিক জায়গার ক্ষেত্রেও এই একই যুক্তি প্রযোজ্য।

ব্যক্তিগতভাবে আমি প্যাটারসনকে প্রথমবার ব্যবসার জন্য জার্সি সিটির চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ সেখানে ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি ক্রেতা সম্প্রদায় আছে, ভাড়া তুলনামূলক কম, এবং নতুন ব্যবসার জন্য প্রতিযোগিতা কিছুটা কম চাপের।

দোকান খুঁজতে বের হওয়ার আগে তিনটি ভিন্ন এলাকার অন্তত পাঁচটি জায়গা সরেজমিনে দেখুন এবং ভাড়ার পাশাপাশি পার্কিং, পণ্য আনা-নেওয়ার সুবিধা ও ফুটট্রাফিক যাচাই করুন। এই কাজটায় দুটো সপ্তাহান্ত লাগবে, কিন্তু ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচাবে।

লিজ চুক্তির শর্তে যে ফাঁদগুলো ছাত্রটি বুঝতে পারেনি

অবাক লাগলো। সত্যিই।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মৌখিক চুক্তিতে অভ্যস্ত। বড়জোর একটা সাদা কাগজে সই। নিউ জার্সিতে বাণিজ্যিক লিজ চুক্তি সাধারণত ১০ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ আইনি দলিল। এতে এমন শর্ত থাকে যা পড়তে না জানলে পরে গলায় দড়ি হয়ে ওঠে।

যেমন “ট্রিপল নেট লিজ“। এই ধরনের চুক্তিতে ভাড়াটে শুধু মূল ভাড়া নয়, বরং সম্পত্তি করের একটা অংশ, বিমার প্রিমিয়াম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও আলাদাভাবে বহন করে। আমাদের ছাত্রটি শুধু মাসিক ভাড়ার অঙ্কটা দেখে চুক্তি সই করেছিল। পরে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা গেল প্রতি মাসে আরও ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার বেশি যাচ্ছে।

নতুন ব্যবসার গুরুত্ব অতিরঞ্জিত করা কঠিন, কারণ সেগুলোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের মূল চালিকাশক্তি, এবং অভিবাসীরা সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি হারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও, উদ্যমটা থাকলেই হয় না চুক্তির ফাঁকফোকর বুঝতে না পারলে সেই উদ্যম উল্টো কাজ করে।

এছাড়া “ব্যক্তিগত গ্যারান্টি” ধারাটাও বিশাল সমস্যা। মানে, ব্যবসা ডুবে গেলেও ছাত্রকে ব্যক্তিগতভাবে পুরো লিজের বাকি টাকা শোধ করতে হবে। কোনো সীমা নেই। এই একটা ধারার কারণে অনেকের পরিবারও বিপদে পড়েছে।

লিজ চুক্তি সই করার আগে একটি বাণিজ্যিক আইনজীবীর সাথে একবার কথা বলে নেওয়া ভালো। পরামর্শ ফি সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ ডলারের মধ্যে, কিন্তু এটা পরবর্তীতে হাজার হাজার ডলার বাঁচাতে পারে।

নিউ জার্সির অভিবাসী পরিবেশ এবং ছাত্রের মানসিক চাপ

এই দিকটা নিয়ে কেউ কথা বলে না, অথচ এটাই সবচেয়ে বেশি কষ্টের।

আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। শুধু আর্থিক বা আইনি সমস্যা নয়, একজন বিদেশি ছাত্রের জন্য নিউ জার্সিতে ব্যবসা শুরু করা একটা মানসিক যুদ্ধও বটে। ভাষার পার্থক্য, সংস্কৃতির ভিন্নতা, একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ সবকিছু মিলিয়ে অনেকে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়।

তিনটি শহরেই অভিবাসন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে, যদিও এই মাঝারি আকারের শহরগুলোর পরিবর্তন ঐতিহ্যগত অভিবাসন ও জেন্ট্রিফিকেশনের বিবরণ অনুসরণ করে না। এই তথ্যটা বলে যে নিউ জার্সির প্রতিটি শহরে অভিজ্ঞতা আলাদা। প্যাটারসনে থাকা বাংলাদেশি ছাত্রের সমস্যা আর নিউওয়ার্কে থাকা ছাত্রের সমস্যা একরকম নয়।

নিউ জার্সিতে অভিবাসীদের অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুরক্ষার আইন প্রণয়নের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এই পরিবেশটা কিছুটা ইতিবাচক হলেও, একজন ছাত্র উদ্যোক্তার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা বাস্তবিকভাবে অনেকটাই অটুট থাকে।

প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যক্তিরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীর ৩১ শতাংশ, এবং এই সংখ্যাটি ক্রমশ বাড়ছে। এর মানে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, সুযোগও বাড়ছে, কিন্তু সমস্যার ধরনও পাল্টাচ্ছে।

যেতে যেতে একটা কথা মনে পড়ল একা লড়াই না করে নিউ জার্সির বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ করুন। নিউ জার্সিতে এমন বেসরকারি সংগঠন আছে যারা কম আয়ের ব্যক্তিদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়। এই সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ করলে প্রথম সপ্তাহেই অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব।

জেন্ট্রিফিকেশনের চাপে ছাত্রের স্বপ্নের দোকানের ভবিষ্যৎ কী?

এটাই আসল প্রশ্ন। ব্যবসাটা টিকবে তো?

জার্সি সিটিতে আবাসিক উন্নয়নে নাটকীয় বৃদ্ধি হয়েছে, বিশেষত বিলাসবহুল ইউনিটে, এবং শহরটি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নতুন ও উন্নত ইউনিটের জন্য ৬,৫০০ এরও বেশি দখলের সার্টিফিকেট জারি করেছে এবং ২০২০ সাল থেকে ৯,৬০০ এরও বেশি জারি করেছে। এই বিলাসবহুল উন্নয়নের ঢেউ সরাসরি বাণিজ্যিক ভাড়া বাজারেও আঘাত করছে।

নতুন বাসিন্দারা মূলত আবাসনের জন্য শহরে আসেন, তাই কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য প্রসার ছাড়াই বাড়ির দাম বেড়ে গেছে। এর ফলে একটি ছোট দোকান টিকিয়ে রাখতে হলে আশপাশের বাসিন্দাদের ক্রয়ক্ষমতার উপর নির্ভর করতে হয়, যা জেন্ট্রিফিকেশনের কারণে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে।

যদিও প্যাটারসনের ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। প্যাটারসন শ্রমিকশ্রেণির অভিবাসীদের একটি মোজাইক। এই বৈচিত্র্যময় শহরে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার একটা শক্তিশালী ভিত্তি আছে। প্যাটারসনে একটি উল্লেখযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায় রয়েছে, এবং ইউনিয়ন অ্যাভিনিউ ও আশেপাশের রাস্তায় বহু বাংলাদেশি মুদি দোকান ও পোশাকের দোকান পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রদায় নেতাদের মতে, প্রায় ১৫,০০০ বাঙালি এই “সিল্ক সিটি”তে বাস করেন এবং পুরো প্যাসেইক কাউন্টিতে এই সংখ্যা ২৫,০০০। এই বিশাল সম্প্রদায়ের উপস্থিতিই একজন ছাত্র উদ্যোক্তার জন্য প্যাটারসনকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাজার করে তোলে।

রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্সি সিটি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণভাবে জেন্ট্রিফাইড হয়ে গেছে, প্যাটারসন ভিন্ন পথে রয়েছে তবে তিনটি শহরেই ক্রমবর্ধমান সম্পত্তির মূল্যের কারণে দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন এবং কর্মসংস্থানের তেমন প্রসার নেই। প্যাটারসনের ভাড়া নেওয়ারকের সমতুল্য এবং শহরের ৫৭ শতাংশ পরিবার ভাড়ার চাপে জর্জরিত। তারপরও, প্যাটারসন আন্তর্জাতিক অভিবাসনের মাধ্যমে নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে এবং বাংলাদেশ বুলেভার্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, আর বিদেশি-জন্মগ্রহণকারী জনসংখ্যা ২০১৫ সাল থেকে ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সংখ্যাগুলো দেখলে বোঝা যায়, একজন ছাত্র উদ্যোক্তার জন্য প্যাটারসন অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। অন্যদিকে জার্সি সিটিতে নতুন বাসিন্দাদের গড় আয় ৮৮,০০০ ডলার এবং বাজার ভাড়া প্রায়ই ৩,০০০ ডলারের বেশি, যা শহরটিকে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভাড়া বাজারগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। এই বাস্তবতায় একজন সীমিত পুঁজির ছাত্রের পক্ষে জার্সি সিটিতে দোকান টিকিয়ে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

শেষ কথা

নিউ জার্সিতে একজন বাংলাদেশি ছাত্র উদ্যোক্তার গল্প শুধু একটি দোকানের গল্প নয় এটি স্বপ্ন, সাহস, এবং বাস্তবতার মধ্যে প্রতিদিনের একটি লড়াইয়ের গল্প। ভিসার জটিলতা, বাণিজ্যিক ভাড়ার চাপ, জেন্ট্রিফিকেশনের ঢেউ সবকিছু মিলিয়ে পথটা মোটেও সহজ নয়। তবুও বাংলাদেশিরা প্যাটারসনে থাকতে এসেছেন এবং প্যাসেইক কাউন্টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান ও স্যালুটেটোরিয়ান দুজনই বাংলাদেশি-আমেরিকান ছিলেন এটি প্রমাণ করে যে এই সম্প্রদায়ের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ।

সফলতার চাবিকাঠি হলো সঠিক পরিকল্পনা ও সম্প্রদায়ের সমর্থন। প্যাটারসনে বাংলাদেশি আমেরিকান উইমেনস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (BAWDi)-এর মতো সংগঠন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেবা, সহায়তা ও ওকালতি প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করছে। এই ধরনের সংগঠন এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে একজন ছাত্র উদ্যোক্তা অনেক বাধা অতিক্রম করতে পারেন। একা না লড়ে সমষ্টিগতভাবে এগিয়ে যাওয়াই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষ পর্যন্ত, প্রশ্নটা শুধু “ব্যবসাটা টিকবে কি না” নয় প্রশ্নটা হলো “কীভাবে টিকবে।” বাংলাদেশ বুলেভার্ডকে কেন্দ্র করে যে সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে, সেই সম্প্রদায়ের শক্তিকে ভিত্তি করে, সঠিক আইনি পরামর্শ নিয়ে এবং ধৈর্যের সাথে এগিয়ে গেলে স্বপ্নের দোকান শুধু টিকে থাকবে না একদিন সেটি হয়তো অন্য একজন ছাত্র উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।

Leave a Comment