আমার বন্ধু শাকিল সিলিকন ভ্যালি এলাকায় যেভাবে তাঁর নিজের সফটওয়্যার কোম্পানির জন্য অফিস ভাড়া নিয়েছেন

শাকিল যখন প্রথম বলল সে সিলিকন ভ্যালিতে অফিস নেবে, আমি মনে মনে হাসলাম। ভাবলাম, এত সহজ কি? যে এলাকায় গুগল, অ্যাপল, নেটফ্লিক্স, ইন্টেল বসে কাজ করে, সেখানে একটা নতুন বাংলাদেশি সফটওয়্যার উদ্যোক্তা গিয়ে জায়গা পাবেন? তবে শাকিল পারলেন। শুধু পারলেনই না, পুরো প্রক্রিয়াটা এত বুদ্ধিমানের সাথে সামলালেন যে আমি নিজেও অবাক। সেই অভিজ্ঞতা, সাম্প্রতিক বাজারের হিসাব মিলিয়ে, আজ লিখছি।

সিলিকন ভ্যালির অফিস বাজার এখন ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে

সততার সাথে বলছি, সিলিকন ভ্যালির বর্তমান অফিস বাজার নিয়ে আমি নিজেও খুব নিশ্চিত ছিলাম না। তথ্য দুই দিক থেকেই আসছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য মেলালে একটা স্পষ্ট চিত্র বেরিয়ে আসে।

সবচেয়ে হালনাগাদ উপাত্ত বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিলিকন ভ্যালির অফিস শূন্যতার হার ১৬.৫ শতাংশে স্থির রয়েছে। মোট প্রাপ্যতা নেমে এসেছে ১৬.৬ শতাংশে, যা বছরভিত্তিক ২৬০ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। আর গড় ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি বর্গফুটে মাসিক ৪.১৬ ডলার, যা বার্ষিক ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। অনেকে ভাবেন এখন বাজার নরম, তাই ভাড়া সহজ। সে ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

অবাক করা পর্যবেক্ষণ হলো: ভাড়া বার্ষিক হারে বেড়েছে, আর লিজিং কার্যক্রম বছরে ৪৮ শতাংশ বেড়ে ২১ লক্ষ বর্গফুট ছাড়িয়েছে, যার পেছনে আছে বড় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত চুক্তি। মানে, এখন বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আবার সক্রিয়ভাবে জায়গা নিচ্ছে।

তবে ছোট ভাড়াটেদের জন্য সুবিধা আছে। চাহিদা কম থাকায় বাড়িওয়ালারা উল্লেখযোগ্য ছাড় দিচ্ছেন, এবং জিজ্ঞাসা মূল্য প্রতি বর্গফুটে ৪.৮৫ ডলারে নেমেছে। শাকিল ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় সিলিকন ভ্যালির অফিস বাজার ছোট স্টার্টআপের জন্য বন্ধ। আমি একমত নই, কারণ, বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধু শীর্ষ মানের জায়গায়, আর নমনীয় লিজের বিকল্প এখনও যথেষ্ট।

এলাকা মোটামুটি মাসিক ভাড়া (প্রতি বর্গফুট) বৈশিষ্ট্য
পালো আল্টো ৫.৫০ ডলার বা বেশি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি, মর্যাদাপূর্ণ
মাউন্টেন ভিউ ৫.০০-৫.৫০ ডলার গুগল সদর দপ্তরের পাশে, চাহিদা বেশি
সানিভেল ৪.৫০-৫.০০ ডলার ব্যবসাবান্ধব, মহাসড়ক সংযোগ ভালো
সান হোসে ৪.০০-৪.৭০ ডলার সবচেয়ে বড় শহর, বৈচিত্র্যময় বিকল্প
সান্তা ক্লারা ৪.০০-৪.৫০ ডলার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বহুল, তুলনামূলক সাশ্রয়ী

শাকিলের পরামর্শ নিতে চাইলে, ভাড়া চুক্তির আগে কমপক্ষে তিনটি আলাদা এলাকার দাম তুলনা করুন। মাত্র দুই বিকেলের কাজ, আর এটা হাজার ডলার বাঁচাতে পারে।

শাকিল যেভাবে সঠিক এলাকা বেছে নিলেন এবং কোথায় সে ভুল করছিলেন

প্রথমে শাকিল পালো আল্টোর দিকে ঝুঁকেছিল। স্বাভাবিক। পালো আল্টো স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হওয়ায় প্রতিপত্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত, এখানে অনেক প্রযুক্তি কোম্পানির উপস্থিতি আছে। কিন্তু সমস্যা হলো দাম। সেই বাজেটে সেখানে জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল।

আমি শাকিলকে বললাম, সত্যিই কি পালো আল্টো দরকার, নাকি শুধু ঠিকানাটা চাই? সে একটু থামল। তারপর বলল, মূলত ক্লায়েন্টদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা দরকার। আর সেখানেই বাঁক নিল তার সিদ্ধান্ত।

সান হোসে এবং সানিভেলে ভাড়ার হার তুলনামূলক কম এবং লিজের শর্তে নমনীয়তা বেশি। মাউন্টেন ভিউ মর্যাদার কারণে ব্যয়বহুল, যদিও সেখানে সহকর্মী-কর্মক্ষেত্র বিকল্পগুলো সাশ্রয়ী প্রবেশদ্বার হতে পারে। শাকিল শেষ পর্যন্ত সানিভেল বেছে নিল। কারণটা অনেকে যা ভাবেন তা নয়। শুধু দাম কম বলে নয়, বরং সানিভেলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, প্রধান মহাসড়কের সাথে সংযোগ এবং যাতায়াতের সুবিধাজনক বিকল্প আছে।

আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। শাকিল আমাকে পরে জানিয়েছিল যে এলাকা বাছাইয়ে তার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি ছিল কর্মীদের যাতায়াত সুবিধা। ক্যালট্রেন কমিউটার রেল পরিষেবা সান ফ্রান্সিসকো থেকে সান হোসে পর্যন্ত সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন স্টপে থামে। এছাড়া ইউএস রুট ১০১ এবং ইন্টারস্টেট ২৮০-সহ বিস্তৃত মহাসড়ক নেটওয়ার্ক সিলিকন ভ্যালিকে সান ফ্রান্সিসকোর সাথে যুক্ত করে। এই পরিবহন সুবিধা শাকিলের প্রযুক্তিকর্মীদের জন্য জরুরি ছিল।

ব্যক্তিগতভাবে আমি সানিভেলকে সান হোসের চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব বেশি, আর নেটওয়ার্কিং সুযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বেশি মেলে। এলাকা নির্ধারণের পর একটু দেরি না করে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞের সাথে একবার বসুন, মাত্র একটি পরামর্শ সভাতেই তিন থেকে পাঁচটি বিকল্প পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা যাবে।

লিজের ধরন বেছে নেওয়া: দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নাকি নমনীয় জায়গা

এই প্রশ্নটা নিয়ে শাকিল সবচেয়ে বেশি ভেবেছে। এটাই কথা। কারণ ভুল সিদ্ধান্ত মানে বছরের পর বছর আটকে থাকা একটা অফিসে যা হয়তো মাত্র ছয় মাসেই ছোট হয়ে যাবে।

সিলিকন ভ্যালির অফিস বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, দীর্ঘ শ্লথতার পর ইজারা কার্যক্রম আবার গতি পাচ্ছে। “উচ্চমানে অভিপ্রায়” প্রবণতা এখনও প্রভাবশালী, যেখানে ভাড়াটেরা উন্নত মানের জায়গায় একত্রিত হচ্ছেন। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য গল্পটা আলাদা।

ছোট ভাড়াটেরা এখন সক্রিয়, বিশেষত পাঁচ হাজার বর্গফুটের নিচের জায়গার ক্ষেত্রে। শাকিলের কোম্পানিও এই বিভাগে পড়ে। তাই সে সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি লিজে না গিয়ে প্রথমে সহকর্মী-কর্মক্ষেত্রের বিকল্পটা খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করল।

এই বাজারে সহকর্মী-কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে বড় ক্যাম্পাস পর্যন্ত সব ধরনের গতিশীল অফিস বিকল্প আছে। শাকিল তুলনা করে দেখল, একটি পূর্ণ সজ্জিত ব্যক্তিগত অফিস ভাড়া নিলে প্রতি মাসে গড়ে আট হাজার থেকে বারো হাজার ডলার খরচ হবে। আর একটি প্রিমিয়াম সহকর্মী-কর্মক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের দল রাখলে খরচ তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলারে সীমিত থাকে। পার্থক্যটা প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ।

কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের মতে, কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং নমনীয় লিজের বিকল্প প্রতিভা আকর্ষণে সহায়তা করে এবং স্টার্টআপগুলোকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম করে। শাকিল শেষ পর্যন্ত একটি সহকর্মী-কর্মক্ষেত্রে ছয় মাসের চুক্তিতে শুরু করল, তারপর দলের আকার বুঝে বড় জায়গায় সরে গেল।

লিজ চুক্তিতে সম্প্রসারণ ধারা রাখার কথা ভাবুন, যা আপনাকে একই ভবনে আরও বড় জায়গায় যাওয়ার সুযোগ দেবে। বাতিল ধারাও রাখুন, যদি প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়ে বা কার্যক্রম পরিবর্তন করতে হয়। শাকিল এই দুটো শর্তই তার প্রথম চুক্তিতে ঢুকিয়েছিল। আপনিও লিজ স্বাক্ষর করার আগে এই দুটি ধারার বিষয়ে আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন, একটি পরামর্শ সেশনেই এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বাজারের বর্তমান প্রবণতা এবং শাকিলের ভাড়ার সময় ঠিক কোন সুযোগটা তিনি কাজে লাগালেন

অনেকে বলেন, সিলিকন ভ্যালিতে এখন অফিস নেওয়ার সময় নয়। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কথা, কাগজে। বাস্তবে কিন্তু চিত্র ভিন্ন।

২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ৪০ লক্ষ বর্গফুটের বেশি লিজের ঢেউ বছরের মোট পরিমাণ ৫৫ লক্ষ বর্গফুটের উপরে নিয়ে গেছে। সিলিকন ভ্যালিতে মোট অফিস প্রাপ্যতার হার চতুর্থ প্রান্তিকে ১৬০ বেসিস পয়েন্ট কমে ২৫.৯ শতাংশে এসেছে, যা তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ২৭.৬ শতাংশ। সংখ্যাগুলো বলছে বাজার ফিরে আসছে।

সিলিকন ভ্যালিতে অফিস পুনরুদ্ধার চালিত হচ্ছে অফিসে ফেরার নির্দেশনা এবং কৃত্রিম মেধা খাতের দ্রুত বিস্তারের মাধ্যমে। শাকিলের সফটওয়্যার কোম্পানি কৃত্রিম মেধাভিত্তিক পণ্য তৈরি করে। তাই এই পরিবেশ তার জন্য আরও অনুকূল।

কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত বিস্তার এখন চাহিদার সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে। ওপেনএআই সম্প্রতি মাউন্টেন ভিউতে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গফুটের লিজ নিয়েছে বলে জানা গেছে, যা সিলিকন ভ্যালির কেন্দ্রীয় অবস্থানে বড় ক্যাম্পাস ধাঁচের জায়গার প্রতি ক্রমাগত আগ্রহ দেখাচ্ছে। অবাক না? বড় কোম্পানিগুলো যখন বিশাল জায়গা নিচ্ছে, তখন ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য সাব-লিজ বা সহকর্মী-কর্মক্ষেত্রের সুযোগ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

সিলিকন ভ্যালিতে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রাপ্যতা কমার সাথে সাথে ভাড়া ক্রমাগত বেড়েছে, আর এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতি ২০২৬ সালে ভাড়াটেদের জন্য অনুকূল সুযোগ তৈরি করতে পারে। শাকিল ঠিক এই বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।

যদি আপনি এখন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস খুঁজেন, তাহলে আজই সান হোসের সাব-লিজ তালিকাগুলো একবার দেখুন, সেখানে বড় কোম্পানির ছেড়ে দেওয়া ভালো মানের জায়গা কম দামে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, এটা করতে পনেরো মিনিটের বেশি লাগবে না।

নেটওয়ার্ক এবং পরিবেশ: শাকিল অফিস নেওয়ার পর কী পেলেন যা আগে ভাবেননি

থাক, মূল কথায় আসি। অফিস শুধু চার দেওয়াল নয়। শাকিল এটা বুঝেছেন সেখানে যাওয়ার পর।

সেখানে অফিস স্থাপন করলে প্রযুক্তি কোম্পানি, উদ্যোক্তা মূলধন সরবরাহকারী এবং দক্ষ প্রতিভার বিশাল নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ মেলে। শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার বাড়ি হওয়ায় এলাকাটি উদ্ভাবন ও সহযোগিতায় অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

শাকিল বলল, প্রথম মাসেই তার সহকর্মী-কর্মক্ষেত্রে দুজন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের সাথে পরিচয় হয়েছে। এই কথাটা কেউ বলে না, সঠিক সহকর্মী-কর্মক্ষেত্র বেছে নিলে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ ভাড়ার মূল্যমানকে ছাড়িয়ে যায়।

অন্যান্য স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা মূলধন সরবরাহকারী এবং প্রযুক্তি অনুষ্ঠানের কাছে থাকাটা অমূল্য হতে পারে। সান ফ্রান্সিসকোর সোমা বা সান হোসের শহরাঞ্চলের মতো এলাকাগুলো প্রযুক্তি ইভেন্ট ও মিটআপের কেন্দ্রবিন্দু। শাকিল সানিভেলের একটি হাব বেছে নেওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি ইন্ডাস্ট্রি ইভেন্টের দাওয়াত পেয়েছেন, যেটা আগে বাড়ি বসে কাজ করার সময় ছিলই না।

সহকর্মী ও ভাগ করা জায়গাগুলো একই মনোভাবের পেশাদারদের সাথে যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ খুলে দেয়। সিলিকন ভ্যালিতে এই সহযোগী পরিবেশ বিশেষভাবে উপকারী, কারণ সেখানে অংশীদারিত্ব ও পরামর্শ বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

সান হোসের মহানগরীয় এলাকা সিলিকন ভ্যালির একটি বড় অংশ জুড়ে আছে এবং মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয়, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট উদ্যোক্তা মূলধনের এক-তৃতীয়াংশও আসে এই প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক হাব থেকে। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় কেন শাকিল মনে করেন সিলিকন ভ্যালিতে অফিস নেওয়াটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।

সিলিকন ভ্যালিতে বর্তমানে ৩১২টি ইউনিকর্ন কোম্পানি রয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ইউনিকর্নের প্রায় অর্ধেক। এই সংখ্যাটা শুধু একটা পরিসংখ্যান নয়, এটা বলে দেয় যে এই এলাকায় থাকাটা মানেই সম্ভাবনার কেন্দ্রে থাকা। ২০২৬ সালের সিলিকন ভ্যালি ইনডেক্স অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ ৯২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২৩,০০০-এর বেশি নতুন পেটেন্ট নিবন্ধিত হয়েছে।

কো-ওয়ার্কিং স্পেসগুলো শুধু ল্যাপটপ প্লাগ করার জায়গা নয়, এগুলো হতে পারে শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং কেন্দ্র, যেখানে প্রযুক্তিবিদরা ধারণা ভাগ করে নিতে এবং একটি সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারেন। শাকিল ঠিক এটাই অনুভব করেছেন। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের একটি গবেষণা দেখায় যে, সম্প্রদায়মুখী কর্মক্ষেত্রগুলো উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেয় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি আনে।

সান হোসের কো-ওয়ার্কিং স্পেসগুলো সদস্যদের শিল্প নেতাদের, সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের এবং বিনিয়োগের সুযোগের সাথে যুক্ত করার জন্য অনন্যভাবে অবস্থিত, যা তাদের ব্যবসার জন্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত করে। অনানুষ্ঠানিক কফি-আড্ডায় নতুন ধারণার জন্ম হয়, সহযোগিতা গড়ে ওঠে, এমনকি এমন অংশীদারিত্বও তৈরি হয় যা বিচ্ছিন্ন হোম অফিসে কখনো সম্ভব হতো না।

শেষ কথা

শাকিলের গল্পটা আসলে শুধু একটা অফিস ভাড়ার গল্প নয়। এটা একটা কৌশলগত সিদ্ধান্তের গল্প, যেটা তার স্টার্টআপের গতিপথ পালটে দিয়েছে। ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার ৫০০টি দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে ৯৫টির বাড়ি সিলিকন ভ্যালিতে, এবং নেটওয়ার্ক গড়া ও নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজে পাওয়ার জন্য এটাই বিশ্বের সেরা জায়গা। যারা সত্যিই বড় কিছু করতে চান, তাদের জন্য এই পরিবেশে থাকাটা কেবল সুবিধাজনক নয়, কার্যত অপরিহার্য।

সঠিক কো-ওয়ার্কিং স্পেস বা অফিস বেছে নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন, বাজেট এবং নেটওয়ার্কিং লক্ষ্য ভালো করে বিবেচনা করুন। সান হোসের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কো-ওয়ার্কিং স্পেসগুলো বহু সুবিধা দেয়, যার মধ্যে শুধু খরচ সাশ্রয় নয়, বরং কার্যপরিচালনার নমনীয়তা, নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি লিজের ঝামেলা ছাড়াই প্রিমিয়াম ব্যবসায়িক ঠিকানায় প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত। শাকিল যেটা শিখেছেন সেটা হলো: সঠিক জায়গায় অফিস নেওয়াটা শুধু একটা ঠিকানা পাওয়া নয়, এটা একটা পুরো ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করা।

তাই আপনি যদি সিলিকন ভ্যালিতে আপনার স্টার্টআপ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন, তাহলে দেরি না করে আজই সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখুন। এই অঞ্চলে শ্রমিকপ্রতি জিডিপি ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫১৫ ডলার এবং উৎপাদনশীলতা অসাধারণ উচ্চ মাত্রায় রয়েছে। শাকিলের মতো যারা সঠিক সময়ে সঠিক পরিবেশ বেছে নেন, তারাই সবার আগে সাফল্যের দরজায় পৌঁছান। সিলিকন ভ্যালি সেই দরজা খুলে রেখেছে, শুধু ঢোকার সাহসটুকু আপনার নিজের।

Leave a Comment