রাজন তামাং-এর কথা প্রথম শুনলে মনে হয়েছিল, এটা হয়তো হবে না। একটা বিদেশি ছেলে, ভাষাও ঠিকঠাক জানে না, পকেটে সীমিত সঞ্চয় আর সে আমেরিকায় নিজের সবজির দোকান খুলবে? সত্যিই। কিন্তু দেখলাম, বছর দুয়েকের মধ্যে সে টেক্সাসের একটি ছোট শহরে বেশ শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে। এই পুরো যাত্রাটা আমি কাছ থেকে দেখেছি ভুল থেকে শেখা, লিজের কাগজ বোঝা, পারমিট জোগাড়, সরবরাহকারী খোঁজা সব মিলিয়ে একটা আস্ত গল্প।
স্বপ্নটা কোথা থেকে এল এবং কেন সবজির দোকানই বেছে নিল রাজন
রাজন বলত, নেপালে তার দাদু একটা ছোট তরকারির বাজার চালাতেন। সেই স্মৃতিটা তার মাথায় গেঁথে ছিল। আমেরিকায় এসে সে লক্ষ্য করল, এশিয়ান সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রায়ই অভিযোগ করে যে তাজা সবজি পাওয়া মুশকিল, বিশেষ করে করলা, মেথিশাক বা আদা-রসুনের মতো দৈনন্দিন উপকরণ। এটাই তার জন্য বাজারের ফাঁকটা। অবাক লাগলো, এত বড় দেশেও এই ছোট চাহিদাটা এত অপূর্ণ থাকতে পারে।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, অভিবাসীদের জন্য আমেরিকায় ব্যবসা শুরু করাটা প্রায় অসম্ভব জটিল। আমি একমত নই, কারণ রাজনের অভিজ্ঞতা বলছে উল্টো কথা। তথ্য বলছে, অভিবাসীরা মার্কিন জন্মগ্রহণকারীদের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি ব্যবসা শুরু করার সম্ভাবনা রাখেন। রাজন এই পরিসংখ্যানের একটি জীবন্ত উদাহরণ।
থাক, মূল কথায় আসি। রাজনের ব্যবসার ধারণাটা সরল ছিল কিন্তু পরিকল্পনাটা মোটেই সরল ছিল না। সে প্রথমেই বুঝেছিল যে শুধু সবজি বেচলেই চলবে না, বরং এমন সবজি বেচতে হবে যা আশেপাশের কোনো বড় চেইন দোকানে পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই কৌশলকে সাধারণ মুদি দোকানের চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের চাহিদা পূরণে ছোট দোকানের তুলনামূলক সুবিধা অনেক বেশি।
পরামর্শঃ যদি আপনি এমন বাজার খুঁজছেন যেখানে বড় প্রতিযোগী কম, তাহলে আজই আপনার এলাকার এশিয়ান বা দক্ষিণ এশিয়ান মুদি দোকানগুলোর তালিকা করুন এবং কোন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না সেটা নোট করুন। এটা ১৫ মিনিটের কাজ।
আমেরিকায় দোকান ভাড়া নেওয়ার খরচ যে সংখ্যাগুলো রাজনকে প্রথমে চমকে দিয়েছিল
দোকানঘর ভাড়ার বিষয়টা রাজনের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল। আচ্ছা ধরুন, আপনি ভেবেছেন মাসে হয়তো কয়েকশো ডলার খরচ হবে। বাস্তবটা অন্যরকম।
আমেরিকায় বাণিজ্যিক দোকানের গড় ভাড়া প্রতি বর্গফুটে বছরে প্রায় ২৯ ডলার, এবং সাধারণত আগাম দুই থেকে তিন মাসের ভাড়া দিতে হয় এটাই সবচেয়ে বড় প্রারম্ভিক খরচগুলোর একটি। তবে রাজ্যভেদে এই সংখ্যা বদলে যায়।
| অঞ্চল / রাজ্য | প্রতি বর্গফুট বার্ষিক ভাড়া (ডলার) | ১,৯০০ বর্গফুটে মাসিক ভাড়া (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| ডেট্রয়েট, মিশিগান | প্রায় ১৮ ডলার | প্রায় ২,৮৫০ ডলার |
| মধ্যবর্তী গড় (আমেরিকা) | প্রায় ২৯ ডলার | প্রায় ৪,৫৯২ ডলার |
| ক্যালিফোর্নিয়া (পশ্চিম উপকূল) | প্রায় ৫৫ ডলার | প্রায় ৮,৭০০ ডলার+ |
| ছোট মফস্বল শহর (টেক্সাস-টাইপ) | প্রায় ১১-১৭ ডলার | প্রায় ১,৭৪০-২,৬৯০ ডলার |
বেশিরভাগ বাণিজ্যিক লিজে এক থেকে তিন মাসের নিরাপত্তা আমানত এবং প্রথম মাসের ভাড়া আগাম দিতে হয়, যার মানে প্রথম দিনেই ৮,৪০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। রাজন টেক্সাসের একটি ছোট শহর বেছে নিয়েছিল বলেই সাশ্রয় করতে পেরেছিল এটা তার বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
🔥 Don’t Miss These Opportunities
আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। শুধু ভাড়াই নয়, বাড়িওয়ালা সাধারণত ভাড়ার সাথে সাধারণ এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, সম্পত্তি কর এবং বীমা প্রিমিয়ামও যোগ করে দেয়। রাজন প্রথমে এই বিষয়গুলো জানত না।
পরামর্শঃ দোকান ভাড়া চুক্তি সই করার আগে মোট মাসিক খরচ হিসাব করুন শুধু বেস রেন্ট নয়, সাধারণ এলাকা রক্ষণাবেক্ষণ ও কর সহ। মাত্র একটি হিসাবের ভুলে মাসে ২০০ থেকে ৫০০ ডলার বেশি গুনতে হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আমার বন্ধু শাকিবুল যেভাবে ওয়াশিংটনে তাঁর নিজের ল-ফার্মের জন্য অফিস ভাড়া নিয়েছিলেন
লাইসেন্স, পারমিট এবং আইনি কাঠামো যে পথে রাজনকে একা হাঁটতে হয়েছিল
এই অংশটা নিয়ে যে কথাটা কেউ বলে না, অভিবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য আইনি নথির জটিলতা শুধু ভাষার কারণে নয়, প্রতিটি রাজ্য ও শহরের নিয়ম আলাদা বলেও।
কথ্য ইংরেজি জানলেও আইনি, কর, ব্যাংকিং, বীমা ও লাইসেন্সের পরিভাষা বুঝতে পারাটা কঠিন, এবং চুক্তিপত্র, লিজের কাগজ ও সরকারি আবেদনপত্র বোঝাটা আরও কঠিন হয়ে যায়। রাজন এই সমস্যায় পড়েছিল তৃতীয় সপ্তাহেই।
রাজন প্রথমে একটি সীমিত দায় কোম্পানি গঠন করল। এই কাঠামোটি নমনীয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদকে ব্যবসায়িক ঋণ থেকে সুরক্ষিত রাখে বলে অভিবাসী উদ্যোক্তাদের মধ্যে জনপ্রিয়। তারপর খাদ্যপণ্য বিক্রির জন্য আলাদা স্বাস্থ্য পারমিট নিতে হয়েছিল। এখানে অনেক উদ্যোক্তা অপ্রত্যাশিত বাধার সম্মুখীন হন, কারণ নিয়মকানুন শুধু রাজ্যে নয়, কাউন্টি ও পৌরসভাভেদেও আলাদা হয়।
সততার সাথে বলছি, রাজনকে ব্যবসার নিবন্ধন ও আইনি ফি বাবদ ঠিক কত খরচ হয়েছে সেটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। তবে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা নিবন্ধন ও আইনি ফি মিলিয়ে প্রায় ৪,৯৯৯ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। রাজন সেই পথে গেলে হয়তো আরও বেশি গুনতে হত।
আরেকটি জরুরি বিষয়: ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের ঋণ একসময় অভিবাসীদের জন্যও উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের জুন থেকে কেবল মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের মালিকানাধীন ব্যবসাই এই অর্থায়নের যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনকে তাই বিকল্প পথ খুঁজতে হয়েছিল।
পরামর্শঃ ব্যবসা শুরু করার আগে আপনার নির্দিষ্ট রাজ্য ও শহরের স্বাস্থ্য পারমিট ও জোনিং নিয়মগুলো একবার সরাসরি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করুন। এই কাজটা একবারের পরিশ্রম, কিন্তু পরে বহু জটিলতা এড়ানো যায়।
প্রথম মালামাল, সরবরাহকারী এবং ঠান্ডা সংরক্ষণ যেখানে রাজন সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল
দোকানঘর পাওয়া মানেই দোকান খোলা নয়। সেটা বুঝতে রাজনের একটু সময় লেগেছিল। প্রথম মাল তোলার খরচটা অনেকে আন্দাজ করতে পারে না।
উদ্বোধনের আগেই সঠিক পণ্য তাকে তুলতে কমপক্ষে ৫০,০০০ ডলার আগাম খরচ করতে হতে পারে। রাজন অবশ্য ছোট পরিসরে শুরু করেছিল বলে এই সংখ্যাটা তার জন্য কম ছিল। একটি ছোট সুবিধার দোকানের প্রাথমিক মালামালে ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত লাগতে পারে।
ফ্রিজ বা ঠান্ডা সংরক্ষণের সরঞ্জাম নিয়ে রাজন আমার সাথে যে কথা বলেছিল, সেটা শুনে সত্যিই চমকে গিয়েছিলাম। ওয়াক-ইন ফ্রিজার কিনতে ১৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ ডলার, পয়েন্ট অব সেল ব্যবস্থায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলার এবং ইলেকট্রনিক শেলফ লেবেলে প্রতিটিতে ১ থেকে ৩ ডলার করে খরচ পড়তে পারে। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে।
তবে রাজনের সবচেয়ে চালাক কাজটা ছিল স্থানীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান পাইকারি বাজার থেকে সরাসরি সরবরাহকারী ঠিক করা। পচনশীল পণ্যের জন্য একাধিক সরবরাহকারীর সাথে সম্পর্ক রাখলে মালের ঘাটতি এড়ানো যায়। এই পরামর্শটা সে একজন চীনা মুদি দোকানদারের কাছ থেকে পেয়েছিল।
জানেন, রাজন বনাম বড় চেইন স্টোরের তুলনা করলে দেখলাম পার্থক্যটা স্পষ্ট ছোট দোকান তাজা সবজির ঘূর্ণনহার বড় দোকানের চেয়ে দ্রুত রাখতে পারে। এই সুবিধাটা অনেকে ভাবেন না।
পরামর্শঃ প্রথম সপ্তাহে মালের অর্ডার দেওয়ার আগে অন্তত তিনটি আলাদা সরবরাহকারীর কাছ থেকে দাম জেনে নিন। একটি দ্রুত তুলনা করলেই বুঝতে পারবেন কে বেশি সুবিধাজনক শর্তে দিচ্ছে।
প্রথম ছয় মাসের বাস্তব চিত্র লাভ, লোকসান এবং রাজনের শিক্ষা
এটাই সেই অংশ যেটা নিয়ে সবচেয়ে কম কথা হয়। প্রথম মাসে বিক্রি ছিল হতাশাজনক। আশ্চর্য না?
একটি মুদি দোকান দ্রুত সফল হয় না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধৈর্যই এখানে আসল চাবিকাঠি। রাজন এই কথাটা প্রথম দুই মাসে নিজের শরীরে অনুভব করেছিল।
একটি ছোট মুদি দোকান সাধারণত মাসে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ ডলার আয় করে, আর মাঝারি আকারের দোকানের আয় ৬,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। রাজন প্রথম দিকে ছোটর কাছাকাছিই ছিল।
যদিও সংখ্যাগুলো উৎসাহজনক ছিল না, তবু রাজন হাল ছাড়েনি। সে লক্ষ্য করল যে কিছু সম্প্রদায়ের ক্রেতারা বারবার ফিরে আসছে। কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেটা বুঝে বেশি মজুদ রাখলে বিক্রি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। চতুর্থ মাসে সে এই কৌশলটা ঠিকঠাক প্রয়োগ করল।
জরুরি তহবিল রাখাটাও জরুরি অন্তত ছয় মাসের খরচ মেটানোর মতো সঞ্চয় হাতে না থাকলে প্রথম ঝড়েই ব্যবসা থমকে যেতে পারে। রাজন ঠিক এটাই আগে থেকে ভেবেছিল।
আরেকটা বিষয় রাজন বলল, সে আশা করেছিল প্রথম মাসেই লাভ দেখতে পাবে। হয়নি। কিন্তু ষষ্ঠ মাসে প্রথমবার সে মাসিক খরচের চেয়ে বেশি আয় করল। সেই দিনটার কথা সে এখনও মনে রাখে।
পরামর্শঃ আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি সেটা হল, প্রথম ছয় মাসে আয় না হওয়াকে ব্যর্থতা ধরো না, ধরো শেখার বিনিয়োগ। আপনিও পরের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় এই মানসিকতাটা রাখুন।
অভিবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে রাজনের মাথা উঁচু থাকার রহস্য সম্প্রদায় ও পরিচয়ের শক্তি
দোকান চলে কিন্তু রাজন শুধু সবজি বেচে না। সোজা কথায়, সে একটা সংযোগ বিন্দু তৈরি করেছে।
অভিবাসী প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যবসাগুলো লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং মার্কিন অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব যোগান দেয়। রাজন এই বৃহত্তর চিত্রের একটি ক্ষুদ্র অংশ, কিন্তু তার এলাকায় সে বেশ প্রভাবশালী।
নেপালি, ভারতীয় ও বাংলাদেশি পরিবারগুলো তার দোকানে আসে শুধু সবজি কিনতে নয়, বরং নিজস্ব ভাষায় দু’টো কথা বলার সুযোগ পেতেও। এই সামাজিক মূল্যটা কোনো হিসাবে ধরা যায় না।
কার্যকর বিপণনে অনলাইন উপস্থিতি, গুগল ম্যাপে তালিকাভুক্তি, সামাজিক মাধ্যম এবং গ্র্যান্ড ওপেনিং ইভেন্টের মতো উদ্যোগ দোকানে নতুন ক্রেতা টানতে সহায়তা করে। রাজন প্রথম মাসেই এই কাজগুলো করেছিল সেটাই তাকে দ্রুত পরিচিত করে তুলেছিল।
বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন একটি ছোট সবজির দোকান টিকিয়ে রাখা কঠিন। আমি একমত নই, কারণ রাজন প্রমাণ করেছে যে সঠিক সম্প্রদায়কে সেবা দিতে পারলে প্রতিযোগিতার ভয় অনেকটাই কমে যায়। আস্থা একবার তৈরি হলে সেটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা দোকানের ভাড়া ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ক্রমাগত বেড়েছে, এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তার মানে এখনই শুরু করাটা পরের চেয়ে সস্তা হতে পারে।
পরামর্শঃ নিজের দোকানের নাম গুগল ম্যাপে যোগ করুন এবং প্রথম সপ্তাহে অন্তত দশটি রিভিউ সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন এটা বিনামূল্যে করা যায় এবং স্থানীয় অনুসন্ধানে আপনার দৃশ্যমানতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।
শেষ কথা
রাজনের গল্পে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা হলো আমেরিকায় ছোট ব্যবসা শুরু করা কঠিন, কিন্তু অসমম্ভব নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক সম্প্রদায় এবং সঠিক মানসিকতা থাকলে একজন অভিবাসীও এই দেশে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।
গবেষণা বলছে, মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় অভিবাসীরা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি হারে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। রাজন এই পরিসংখ্যানের জীবন্ত প্রমাণ। সে ভয় পেয়ে থামেনি, বরং ভয়কেই কাজে লাগিয়েছে।
মুদি দোকানের মুনাফার হার সাধারণত মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে থাকে অর্থাৎ সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে মোট রাজস্বের মাত্র এই সামান্য অংশটুকুই ব্যবসায়ীর হাতে থাকে। তার মানে এই ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে পরিমাণ বিক্রি, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বস্ত ক্রেতাগোষ্ঠী এই তিনটির কোনো বিকল্প নেই। রাজন এই বাস্তবতা বুঝেছিল, এবং সেই অনুযায়ীই সে তার দোকান চালায়।
২০২৫ সালে আমেরিকায় নতুন ব্যবসা শুরু করা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন হয় অভিবাসী, নয়তো অভিবাসীদের সন্তান। এই সংখ্যাটা বলে দেয় যে স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে পথ বের হয়ই। রাজনের মতো হাজারো মানুষ প্রতিদিন সেই সাহস নিয়ে নতুন দিন শুরু করছেন।

